আজ আমরা নজর দিচ্ছি এমন এক ম্যাচের দিকে, যেটা সম্ভবত অনেকেরই তেমন নজরে আসেনি——কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র বনাম উজবেকিস্তান। তাড়াহুড়ো করে স্ক্রল করে চলে যাবেন না, এই ম্যাচটার ডাটা দেখে আমার কাছে একটা খুব স্পষ্ট দিক এসেছে: ওভার ২.৫। চলুন, ধাপে ধাপে ভেঙে বলি।
আগে কথা বলি লড়াইয়ের মানসিকতা নিয়ে। এই দুই দল যখন মুখোমুখি হয়, তখন তাদের মানসিকতা বেশ মজার। কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের দলটা দারুণ শারীরিক সামর্থ্যের, কিন্তু তাদের ট্যাকটিক্যাল শৃঙ্খলা মাঝে মাঝে একটু ঢিলে হয়ে যায়। এ ধরনের আন্তঃমহাদেশীয় প্রস্তুতি ম্যাচ বা টুর্নামেন্টে তারা তুলনামূলকভাবে খোলা মানসিকতায় নামে—না আছে অতীতের চাপ, না আছে খুব বেশি মানসিক বোঝা। তারা নিজেদের দেখাতে আসে, বিশেষ করে যেসব ফরোয়ার্ড বিদেশি লিগে খেলে, তাদের জন্য এমন মঞ্চ নিজেকে উজ্জ্বল করার আর দাম বাড়ানোর দারুণ সুযোগ। তাই কঙ্গো সাধারণত রক্ষণাত্মক হয় না, তাদের স্বভাবই সামনে এগিয়ে যাওয়া।
উজবেকিস্তান? তারা মধ্য এশিয়ার ফুটবলের প্রতিনিধি, আর গত কয়েক বছরে অনেক দ্রুত উন্নতি করেছে, দলের সামগ্রিক কাঠামোও বেশ শক্তিশালী। তবে তাদের একটা বৈশিষ্ট্য আছে—শারীরিকভাবে শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেললে নিজেদের রক্ষণেও ফাঁকফোকর দেখা দিতে পারে। উজবেকিস্তান সেই ধরনের দল নয় যারা পুরোপুরি বাস পার্ক করে; তাদের আক্রমণভিত্তিক কাঠামো আছে, সংগঠকও আছে, আর তারাও জিততে চায়। দুই দলই একে অপরের বিপক্ষে নিজেদের প্রমাণ করতে চাইবে, আর তার মানে ম্যাচটা একঘেয়ে হওয়ার কথা নয়।
এবার ডেটার দিকে তাকাই, এটাই মূল বিষয়। কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোর স্কোরলাইন খুবই চরম ধরনের—হয় তারা গোলশূন্য হয়ে যায়, নয়তো দুই দলই গোল করে, আর মোট গোল অনেক সময়ই ২.৫ ছাড়িয়ে যায়। কারণটা সহজ: তাদের রক্ষণে মনোযোগের ঘাটতি থাকে, সেন্টার-ব্যাকদের মধ্যে কভার করার সমন্বয়ও তেমন ভালো নয়, কিন্তু আক্রমণে ব্যক্তিগত মানের খেলোয়াড় আছে দারুণ, আর কাউন্টার অ্যাটাকে তারা বিদ্যুতগতিতে ছুটে যায়, সুযোগ পেলেই আঘাত করে।
উজবেকিস্তানের ক্ষেত্রেও আমি তাদের সাম্প্রতিক প্রস্তুতি ম্যাচগুলো দেখেছি। গড় গোলসংখ্যা খুব বেশি বিস্ফোরক নয়, তবে শট কনভার্সন রেট ধীরে ধীরে বাড়ছে। সবচেয়ে বড় কথা, সেট পিসে তারা খুবই বিপজ্জনক। পেছন ও মাঝমাঠে কয়েকজন লম্বা-চওড়া খেলোয়াড় আছে, আর কর্নার ও ফ্রি-কিকে তারা প্রায়ই সরাসরি গোলের সুযোগ তৈরি করে। কঙ্গোর মতো এমন এক রক্ষণভাগের বিপক্ষে, যেখানে এয়ারিয়াল ডিফেন্স শীর্ষ মানের নয়, উজবেকিস্তানের সেট পিসই সম্ভবত ম্যাচের জট খোলার সবচেয়ে বড় অস্ত্র হতে পারে।
আরও একটা ডেটার দিক আছে—কঙ্গোর গোলকিপার পজিশনটা খুব স্থিতিশীল নয়, সাম্প্রতিক কয়েকটি ম্যাচে একদম সাদামাটা ভুলে গোল হজম করতে হয়েছে। অন্যদিকে উজবেকিস্তানের গোলকিপারও পুরোপুরি লোহার দেয়াল ধরনের নন; দ্রুতগতির ফরোয়ার্ডের বিপক্ষে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্তে মাঝেমধ্যে ভুল হয়। দুই দলের গোলরক্ষকই এমন নন যাদের একেবারে অটল বলা যায়, আর ওভার বেটের জন্য এটা একটা নীরব বাড়তি সুবিধা।
সবকিছু মিলিয়ে দেখলে, এই ম্যাচে দুই দলেরই গোল করার প্রেরণা আছে, দুই ডিফেন্সেই দুর্বলতা আছে, আর শারীরিক লড়াইয়ের কারণে সেট পিসের সুযোগও বেশি তৈরি হবে। তাই আমি মোট গোল অন্তত তিনটি হওয়ার পক্ষে। ওভার ২.৫—এটাই আমার কল। চলুন, সেটাই ধরি।