প্রথমে ইরানের রক্ষণভাগের কথা বলি, ওটা সত্যিই এক দুর্ভেদ্য দুর্গ, mate। গত ১৫ ম্যাচে গড়ে মাত্র ০.৮ গোল হজম করেছে, আর ক্লিন শিটের হারও ভয়ংকর রকম উঁচু। তারা মূলত লো-ব্লক ডিফেন্স খেলতে পছন্দ করে, ডিফেন্স লাইন খুব নিচে থাকে, মিডফিল্ডের ইন্টারসেপশনের ঘনত্বও বেশ বেশি। কানানি আর খালিজাদেহর এই সেন্টার-ব্যাক জুটি সামনাসামনি রক্ষণ আর হেডে বল জেতার লড়াই—দুটোতেই একেবারে সেরার কাতারে। আগের ম্যাচে বেলজিয়ামের বিপক্ষে তারা প্রতিপক্ষের আক্রমণ কার্যত পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছিল, ০-০ তে ম্যাচটা খুবই稳稳ভাবে ধরে রেখেছিল।
এবার মিসরের দিকে তাকালে, আগের ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের জালে ৩ গোল দিলেও ভুলে গেলে চলবে না, সেটা ছিল নিউজিল্যান্ডেরই বেশি ওপরে উঠে এসে কাউন্টার অ্যাটাকের জায়গা তৈরি করে দেওয়া। কিন্তু ইরানের মতো গুটিয়ে খেলা দলের বিপক্ষে মিসরের আসলে খুব বেশি উপায় নেই। সালাহ ব্যক্তিগতভাবে খুবই শক্তিশালী, তবে ইরানের লেফট ব্যাক মুহাম্মাদি রক্ষণে বেশ নির্ভরযোগ্য, সহজে তাকে ভিতরে কেটে ঢোকার সুযোগ দেবে না। আর মিসরের শট কনভার্সন রেটও খুব ভালো না; বিশ্বকাপে তাদের হার মাত্র ৯.১%, যা গড়ের নিচে। সুযোগ তৈরির ক্ষমতাও সাধারণ মানের, আর xG (প্রত্যাশিত গোল) পরিসংখ্যানও খুব উজ্জ্বল নয়।
আরেকটা ব্যাপার হলো, মিসরের প্রথম-পছন্দের ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার আমরাব সাসপেন্ডেড। এটা তাদের মিডফিল্ড সংগঠনে বড় প্রভাব ফেলবে। এই মেট্রোনোমটা না থাকলে আক্রমণের ধারাবাহিকতা অনেকটাই কমে যাবে, বরং ইরানের ডিফেন্সিভ ফাঁদে আটকে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
অবশ্য ফুটবলে কিছুই অসম্ভব নয়। সালাহ হঠাৎ করে একটা মুহূর্তে জ্বলে উঠতে পারেন, অথবা ইরান জয়ের জন্য একটু ওপরে উঠে গিয়ে কাউন্টার অ্যাটাকের জায়গা ছেড়ে দিতে পারে—সেক্ষেত্রে বড় স্কোরও হতে পারে। কিন্তু দুই দলের ডিফেন্সের মান, কৌশলগত ধরন আর ম্যাচের মানসিকতা মিলিয়ে দেখলে ২ গোলের এই লাইনটা ভাঙা হবে না—এমন সম্ভাবনাই আমার কাছে বেশি।