ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনের মতে, বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল, যেখানে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা , তা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই), টুর্নামেন্ট কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় পুলিশের যৌথ মূল্যায়নে চলমান আসরের সবচেয়ে উচ্চঝুঁকির ম্যাচ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

আটলান্টায় নিরাপত্তার জন্য বিস্তৃত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর মধ্যে দুই দলের সমর্থকদের জন্য আলাদা প্রবেশপথ থাকবে, যদিও স্টেডিয়ামের ভেতরে কোনো শারীরিক বিভাজন এলাকা থাকবে না। এফবিআই, ফিফা এবং স্থানীয় পুলিশ এ সোমবার একটি যৌথ বৈঠক করে, যেখানে দুই দেশের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক বিরোধ নিয়ে আলোচনা হয় এবং সম্ভাব্য সমর্থক সংঘর্ষের আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
কর্তৃপক্ষ সমর্থকদের আলাদা রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে, তবে ফিফার বিধির কারণে স্টেডিয়ামের ভেতরে বিভাজন নিষিদ্ধ থাকায় মাঠপর্যায়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সুযোগ সীমিত বলে কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন। ফলে করিডর ও জনসমাগমপূর্ণ এলাকা, যেখানে সমর্থকদের মিশে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি, সেগুলোই নিরাপত্তা মোতায়েনের প্রধান অগ্রাধিকার হবে।
আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি সব পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা তাদের বিশ্বকাপ অভিযানের সময় ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে লেখা গান একাধিকবার গেয়েছেন। ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ডস যুদ্ধ ৯০৭ জনের প্রাণ কেড়ে নেয় এবং শেষ পর্যন্ত যুক্তরাজ্য দ্বীপগুলোর ওপর তার সার্বভৌমত্ব পুনর্ব্যক্ত করে। এ সপ্তাহে আর্জেন্টিনার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবারও ফকল্যান্ডসের ওপর দেশের আঞ্চলিক দাবি তুলে ধরেন, যা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার দ্রুতই প্রত্যাখ্যান করেন।
স্কালোনি বলেন: “আমি সব আর্জেন্টাইন মানুষকে বলতে চাই, এটি কেবল একটি ফুটবল ম্যাচ। আমরা একটি দুর্দান্ত দল এবং অসাধারণ কোচের বিপক্ষে খেলছি, কিন্তু দিনের শেষে এটা ফুটবল খেলা ছাড়া আর কিছুই নয়।”
বুধবারের সেমিফাইনাল দেখতে আটলান্টায় যাওয়া ইংলিশ সমর্থকদের জন্য এই হাই-স্টেকস ডার্বিতে নজিরবিহীন কড়া নিরাপত্তা দেখা যাবে। ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডও একই মত প্রকাশ করেছেন।
“এটা শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ। আবেগপ্রবণ দুই দল ম্যাচ দেখতে এসেছে — এটাই ফুটবলের সৌন্দর্য। এটি সমর্থকদের এক করে, আর দুই পক্ষই অসীম গর্ব নিয়ে খেলে। ফুটবলকে কথা বলতে দিন,” পিকফোর্ড বলেন।
দুই দলের অবস্থানরত হোটেলের বাইরে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন থাকবে, আর বিপুল সমর্থক সমাগমের সম্ভাবনা থাকায় মার্সেডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামের আশপাশকে নিরাপত্তার মূল এলাকা হিসেবে ধরা হবে। যুক্তরাষ্ট্রে ইংল্যান্ডের আগের বিশ্বকাপ ম্যাচগুলো প্রায় ঘরের মাঠের অনুভূতি দিলেও আটলান্টার পরিবেশ জর্জিয়ায় ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর বিপক্ষে তাদের ম্যাচের তুলনায় একেবারেই ভিন্ন হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে আর্জেন্টিনার একটি বড় প্রবাসী জনগোষ্ঠী রয়েছে, আর ফ্লোরিডা থেকে হাজার হাজার আর্জেন্টাইন সমর্থক ম্যাচ দেখতে আসবেন বলে জানা গেছে। কর্মকর্তাদের ধারণা, স্টেডিয়ামের ভেতরে সমর্থকসংখ্যা প্রায় ৫০-৫০ ভাগে ভাগ হবে, যদিও আটলান্টার ডাউনটাউনে ইংলিশ সমর্থকের সংখ্যায় তারা পিছিয়ে থাকতে পারেন।
ডেইলি মেইল স্পোর্টসের আগের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, রাস্তায় টহল পুলিশের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হবে। পাশাপাশি মঙ্গলবার ফ্রান্স বনাম স্পেন ম্যাচ সম্প্রচারিত সমর্থক কার্নিভাল অনুষ্ঠানও বিশেষ নিরাপত্তা নজরদারির আওতায় থাকবে।




